Your Language
PCOS সম্পর্কে সত্য শেয়ার করা হচ্ছে
+ PCOS কি?
পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) হল আজকের দিনে সবথেকে প্রচলিত সমস্যা যা মহিলারা মুখোমুখি হয় প্রজনন বয়সের সময় (15-45 বছরের)। ভারতে, প্রায় 36% প্রজনন বয়সী মহিলা জনসংখ্যা এই PCOS থেকে ভুগছে বা স্পষ্ট করে বললে প্রজনন বয়সের প্রতি 4 জন মহিলার মধ্যে 1 জনের পলিসিস্টিক ওভারিজ আছে। এমনকি সাম্প্রতিককালে PCOS হল যেকোনো সামাজিক এবং মিডিয়া ফ্রন্টগুলিতে নারীর স্বাস্থ্যের উপর সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে একটি। এটি খুবই সাধারণ এবং আমাদের মধ্যে যেকোনো কারো হতে পারে। এখানে একজনের জানা উচিত যে PCOS -এর জটিলতা এড়ানোর পাশাপাশি অতিক্রম করা, যদি সেটিকে না চিকিৎসা করিয়ে ফেলে রাখা হয় তাহলে তার জন্য বন্ধ্যাত্ব হতে পারে, এর জন্য সবকিছুই জানা প্রয়োজন।

PCOS সনাক্ত করতে সাহায্য করে যে লক্ষণগুলি
  • ব্রণ/ফুস্কুড়ি ও হির্সুটিজম /অতিরিক্ত চুল বৃদ্ধি
  • স্থূলতা/ওজন বৃদ্ধি
  • অনিয়মিত মাসিক পিরিয়ড
  • পিগমেন্টটেশন, বিশেষ করে ঘাড় ও বগলে
  • পলিসিস্টিক ওভারিজ (ওভারিজে সিস্টের বিকাশ) -আল্ট্রা সোনোগ্রাফি (USG) মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়

PCOS -এর লক্ষণ শীঘ্রই শুরু হতে পারে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কৈশোরের শেষ ও প্রাপ্তবয়স্কের শুরুর দিকে এর লক্ষণ দেখা যায়। PCOS প্রায় নির্ণয় করতে ভুল হয় বা স্পষ্ট করে বললে ব্রণ/ফুস্কুড়ি ও হির্সুটিজম/অতিরিক্ত চুল বৃদ্ধির মতো দৃশ্যমান লক্ষণের কারণে কসমেটোলজিক্যাল সমস্যা হিসাবে আত্ম-নির্ণয় করা হয়।

যদিও, বেশিরভাগ মহিলাই জানেন না বা বুঝতে পারেন না যে তাদের PCOS হয়েছে, যতক্ষণ না তাদের মাসিক চক্র কোনো সমস্যা হয় বা তারা গর্ভবতী হতে তাদের কষ্ট হয়।

1) পলিসিস্টিক ওভারিজ (ওভারিজে সিস্টের বিকাশ):
প্রত্যেক মহিলার জরায়ু দুদিকে দুটি ডিম্বাশয় আছে। প্রতিটি ডিম্বাশয় বড় মার্বেল আকারের হয়। ডিম্বাশয় ডিম্বাণু এবং বিভিন্ন হরমোন তৈরি করে।
সাধারণতঃ, প্রতিটি মাসিক চক্রের সময়, ডিম্বাশয়ে অনেক ছোট গ্রন্থিকোষগুলি বেড়ে ওঠে এবং ডিম্বাণু তৈরি করে। মধ্য চক্রে, ফ্যালোপিয়ান টিউবে একটি ডিম্বাশয় থেকে একটি ডিম্বাণু ছাড়া হয়। এটিকে 'ডিম্বস্ফোটন' পদ্ধতি বলা হয়। অন্যান্য গ্রন্থিকোষগুলি অতিরিক্ত পেকে যায় এবং নষ্ট হয়ে যায়।
PCOS -এ আক্রান্ত মহিলাদের, ডিম্বস্ফোটন হয় না এবং ডিম্বাণু মুক্তি পায় না। গ্রন্থিকোষগুলি নষ্ট হয় না, কিন্তু তরল দ্বারা ভর্তি হয়ে সিস্টে পরিণত হয় যা দেখতে আঙ্গুরের গুচ্ছের মতো লাগে। ডিম্বাশয়গুলি ফুলে যেতে পারে, কখনো কখনো স্বাভাবিকের থেকে দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি বড় হতে পারে।
আপনার পলিসিস্টিক ওভারিজ আছে কিনা তা নির্ণয় করতে আপনার ডাক্তার আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যানের সুপারিশ করতে পারেন।

2) অনিয়মিত মাসিক পিরিয়ড:
প্রজনন বয়সী কোনো মহিলার মাসিক চক্রের গড় সময়কাল হল 28 দিন, যদিও এটি 25 থেকে 35 দিন হতে পারে। PCOS আক্রান্ত মহিলার মাসিক পিরিয়ড সাধারণত 35 দিনের কমে সময়ের অন্তর (অনিয়মিত মাসিক পিরিয়ড) হয় বা নাও হতে পারে।
যদি আমরা নতুন সমীক্ষা বিবেচনা করি তাহলে দেখতে পাব যে আক্রান্ত 99% মহিলার মাসিক নিয়মিত হয় না।
যদি আপনার অনিয়মিত মাসিক চক্র হয়ে থাকে, তাহলে দেরি হওয়ার আগে তার জন্য পদক্ষেপ নিন এবং অনুগ্রহ করে যত শীঘ্র সম্ভব আপনার ডাক্তার সঙ্গে আলোচনা করুন।




3) ব্রণ/ফুস্কুড়ি ও হির্সুটিজম/অতিরিক্ত চুল বৃদ্ধি:
PCOS -এর সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান লক্ষণগুলি হল ব্রণ এবং হির্সুটিজম। হির্সুটিজম চুলের অতিরিক্ত বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই নয়, সাধারণতঃ নিতম্বের পাছা, পিঠ, বুক বা মুখে। অপর পক্ষে ব্রণ হল একটি চর্ম রোগ যার ফোলাভাব হল ফুস্কুড়ির সমান। ব্রণ/ফুস্কুড়ি সাধারণত পিঠ এবং বুকে, মুখে হয়। -এর আক্রান্ত প্রায় 75% মহিলাদের হির্সুটিজম আছে এবং প্রায় 34% মহিলাদের ব্রণ/ফুস্কুড়ি আছে।
PCOS-এ আক্রান্ত মহিলার, ওভারিয়ান সিস্ট হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ঘটায় তাই পুরুষ হরমোন বেশি উপাদিত হয় (যেমন টেসটোসটেরঅন)। বর্ধিত পুরুষ হরমোন ব্রণ/ফুস্কুড়ি ও হির্সুটিজম/অতিরিক্ত চুল বৃদ্ধি বাড়ায়।



4) স্থূলতা ওজন বৃদ্ধি:
স্থূলতা বা ক্রমাগত ওজন বৃদ্ধি PCOS-এর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। PCOS-এ আক্রান্ত প্রায় 50% মহিলার চেহেরা স্থূলকায়। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার পরিবর্তন PCOS-এ আক্রান্ত মহিলাকে আরো স্থূলকায় করে তোলে।
PCOS-এ আক্রান্ত মহিলাদের স্থূলতাভাব দেখা যায় কারণ তাদের শরীরের কোষগুলি শর্করা গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী ইনসুলিন নামক হরমোনের প্রতিরোধী। এই ইনসুলিন রেজিস্টেন্স শর্করা গ্লুকোজ ব্যবহার থেকে কোষগুলিকে বাধা দেয় যা ফ্যাট H^ নামে সঞ্চিত হয় ও এইভাবে স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধি হয়।
এছাড়াও স্থূলতা হরমোনগুলির মধ্যে ভারসাম্যহীনতা ঘটায় যা মাসিক পিরিয়ডকে প্রভাবিত করে। আপনি যদি স্থূলকায় বা অতিরিক্ত ওজন হয়ে যায় তাহলে তা কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।


5) পিগমেন্টটেশন, বিশেষ করে ঘাড় ও বগলে:
PCOS-এ আক্রান্ত মহিলাদের ঘাড়ে, বগলে, কপালে, শরীরের সম্ভাব্য কিছু অন্যান্য অংশে পিগমেন্টটেশন বা চামড়ায় কালো ছোপ হতে পারে। এই কারণ হল রক্তে অত্যধিক ইনসুলিন হরমোন থাকা, অবিলম্বে কোনো গাইনোকোলজিষ্টের পরামর্শ নিন।







6) বন্ধ্যাত্ব:
বন্ধ্যাত্ব মানে হল গর্ভবতী (গর্ভধারণ) হতে অসুবিধা থাকা। বর্তমান সমেয় বন্ধ্যাত্বের সবচেয়ে বড় কারণ হল PCOS । PCOS -এ আক্রান্ত মহিলাদের মাসিক না হওয়া বা অনিয়মিত হওয়া প্রায়ই ডিম্বস্ফোটনের (ডিম্বাণুর রুপান্তর এবং মুক্তি) অভাবের সঙ্গে সংযুক্ত, যা গর্ভধারণ বা গর্ভবতী হওয়ার সম্ভবনাকে কমিয়ে দেয়।
আপনার যদি গর্ভধারণে সমস্যা থাকে, তাহলে PCOS হতে পারে, তাই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।




+ PCOS চিকিৎসা না করলে এর ফলাফল কি হয়?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল PCOS সম্পর্কে একজনের এটি বোঝা প্রেয়াজন যে এটি শুধুমাত্র কসমেটিক বা মাসিক পিরিয়ডের সমস্যা নয়। এটি অনেক দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। PCOS-এ আক্রান্ত মহিলাদের মেনোপজ পর্যন্ত একজন গাইনোকোলজিষ্ট দ্বারা নিয়মিত চেক-আপ করা গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি সমস্ত উপসর্গ বন্ধ হয়ে গেলেও।

PCOS-এ আক্রান্ত মহিলার চিকিৎসা না হলে এইসব অবস্থা বা রোগ বিস্তারের বিশাল ঝুঁকি রয়েছে:
  • বন্ধ্যাত্ব\গর্ভবতী হতে অক্ষমতা
    ইতিমধ্যেই হওয়া আলোচনা অনুযায়ী PCOS হল বন্ধ্যাত্ব\গর্ভবতী হতে অক্ষমতা হওয়ার অতিসাধারণ কারণ। সুতরাং বন্ধ্যাত্বের ভবিষ্যত ঝুঁকি এড়ানোর জন্য প্রথম দিকেই PCOS ধরা পড়া আবশ্যক।








  • ডায়াবেটিস
    PCOS-এ আক্রান্ত প্রায় 50% মহিলার ডায়াবেটিস থাকবে বা 40 বছরের আগে ডায়াবেটিসের লক্ষণ ধরা পড়বে। তাই, আপনি যদি PCOS-এ আক্রান্ত হন, তাহলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করার জন্য, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং ব্যায়াম করা বাঞ্ছনীয়।







  • রক্তে উচ্চ কলেস্টেরল এবং কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ
    PCOS-এ আক্রান্ত মহিলাদের শরীরে রক্তে উচ্চ কলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেহেতু কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ নিবিড়ভাবে কলেস্টেরল সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, তাই PCOS-এ আক্রান্ত মহিলাদের মধ্যে এই ধরনের রোগের (হার্ট অ্যাটাক) ঝুঁকি বাড়তে পারে।







  • গর্ভাবস্থার জটিলতাসমূহ
    PCOS-এ আক্রান্ত মহিলাদের গর্ভাবস্থায় জটিলতা বাড়ার বেশি সম্ভবনা থাকে। এর মধ্যে রয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি বাচ্চা হয় বা গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ (প্রি-ইক্ল্যামসিয়া) অথবা গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হতে পারে। আপনার যদি PCOS হয়ে থাকে, তাহলে আপনার নিয়মিত চেক-আপ করানো।







  • এন্ডোমোট্রিয়াল ক্যান্সার/জরায়ুর আস্তরণের ক্যান্সার
    আলোচনা অনুযায়ী PCOS-এ আক্রান্ত মহিলাদের মাসিক পিরিয়ড অনিয়মিত থাকে বা হয় না। সুতরাং, জরায়ুর আস্তরণে ক্যান্সার হওয়ার উচ্চতর ঝুঁকি থাকতে পারে।








তাই, এমনকি আপনি PCOS-এ আক্রান্ত কিনা এই বিষয়ে আপনার সন্দেহ থাকলে অনুগ্রহ করে আপনার উপসর্গগুলিকে উপেক্ষা করবেন না। এইসব ছোটখাট অসুখের পরেও সন্ধান করা এবং আপনার জীবনের পথে স্বাস্থ্য সমস্যার তীব্রতা উপলব্ধি করা জরুরী দরকার।

+ PCOS কারণগুলি কি কি?
আমরা জানি যে PCOS হল মাল্টি-ফ্যাক্টোরিয়াল ডিসঅর্ডার নিম্নলিখিতগুলি হল -এর সম্ভাব্য কারণ।
  • জীবনযাত্রার পরিবর্তনগুলি: জাঙ্ক ফুডের মতো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং ব্যায়াম না করা মহিলাদের ওজন বাড়িয়ে দেয়। স্থূলতা বা ওজন বেড়ে যাওয়ার ফলে হরমোনগুলির মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয় যা আপনার মাসিক পিরিয়ডের ব্যাঘাত ঘটায়।
  • ইনসুলিন রেজিস্টেন্স: 50-80% ক্ষেত্রে ইনসুলিন রেজিস্টেন্স হল প্রধান কারণ। এটিও মহিলাদের ওজন বাড়াতে পারে, যা PCOS-এর উপসর্গগুলি খারাপ করে তোলে।
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: -এ আক্রান্ত মহিলাদের মধ্যে কিছু হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়।
  • পারিবারিক ইতিহাস: যদি তার মা, কাকিমা বা বোনের হয়ে থেকেছিল তাহলে একজন মহিলার হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

+ কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
আপনি যদি PCOS-এর কোনো একটি বা একাধিক লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি যেমন ব্রণ/ফুস্কুড়ি বা হির্সুটিজম/অতিরিক্ত চুল বৃদ্ধি থেকে ভোগেন, তাহলে অনুগ্রহ করে কাছাকাছি কোনো পরামর্শদাতার (গাইনোকোলজিষ্ট) কাছে যান। কারণ, PCOS বন্ধ্যাত্ব, ডায়াবেটিসের কার্ডিওভাসকুলার রোগ এবং গর্ভাবস্থায় জটিলতা ইত্যাদির মতো মত দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যার একাধিক সংখ্যক ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গোড়ার দিকে PCOS ধরা পড়লে বন্ধ্যাত্বের মত আপনার ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা আটকানো যায়। তাই দেরী হওয়ার আগেই পদক্ষেপ নিন।


+ PCOS এর চিকিৎসা কি?
প্রতিরোধের একাধিক উপায় আছে। প্রতিরোধ বিকল্পগুলি উপসর্গগুলির তীব্রতার উপর নির্ভর করে।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন:

PCOS-এ আক্রান্ত মহিলার, সুস্থ জীবনধারা পরিবর্তনগুলি অবস্থার পরিচালনার পক্ষে খুব সহায়ক হতে পারে। সুতরাং, PCOS-এ আক্রান্ত সমস্ত মহিলার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ, তাতে আপনি ভীষণ মোটা বা এমনকি রোগা যাই হোন না কেন।

স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা আপনাকে নিশ্চিত করবে যে আপনি পুষ্টি, ভিটামিন এবং মিনারেলস পাচ্ছেন এবং ডায়াবেটিস এবং কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের মতো রোগের আপনার দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি কমাতে পারে।

কম GI খাবার খান: লোয়ার গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স (GI) জাতীয় খাবার খেয়ে একজন তার রক্তে শর্করার ভারসাম্য রাখতে পারে এবং PCOS-এর উপসর্গগুলি থেকে নিস্তার পেতে পারে। কম GI খাবারগুলি হল পুরো দানা, চর্বিহীন প্রোটিন, বাদাম এবং বীজ, এবং প্রচুর তাজা ফল ও শ্বেতসার নেই এমন সবজি। আপনার নির্দিষ্ট চাহিদার জন্য সেরা পছন্দের খাবার কি তা জানতে আপনার ডাক্তার বা নিউট্রিশনিস্ট সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হোন। এছাড়াও কম ফ্যাটজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।





একসময়ে বেশি না খেয়ে দিনে অনেকবার খাবার খান: একটি দিনের বর্ধিত সময়ান্তর অল্প খাবার খাওয়া আপনার রক্তে শর্করার ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করবে। আপনার উচিত প্রতি 3-4 ঘন্টায় খাবার খাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া।







বেশি করে জল খান: ইনসুলিন রেজিস্টেন্সের কারণে, PCOS-এ আক্রান্ত মহিলার জলের জন্য ওজন বৃদ্ধি বা দ্রুততর ডিহাইড্রেশন হতে পারে। তাই দিনে অন্তত 8 গ্লাস জল পান করা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।








শারীরিক কার্যকলাপ বা ব্যায়াম: এটী আপনার শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করে, আত্মসম্মান বৃদ্ধি এবং আপনার মানসিক চাপ কমায়। সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী ওজন বজায় রাখতে প্রতিদিন 30 থেকে 60 মিনিট শারীরিক কসরত করা বাঞ্ছনীয়। দিনে অন্তত 90 মিনিট ব্যায়াম করা, প্রতিদিনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।







শারীরিক কসরতের বা ব্যায়াম পরিবর্তনের সঙ্গে খাদ্যের সমন্বয়ের তুলনায় শুধুমাত্র একটি খাদ্য তালিকা অনুসরণ করে অনেক ভালো করে ওজনের পরিচালনা করা সম্ভব।

PCOS-এ আক্রান্ত মোটা এবং অতিরিক্ত ওজন থাকা মহিলারা, যারা তাদের ওজন কমায় এবং সুস্থ জীবনযাত্রা পালন করে তারা উল্লেখযোগ্যভাবে ডায়াবেটিস এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের মত দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমাতে পারে।

ওষুধ:

আপনি যদি PCOS-এ থেকে ভোগেন, তাহলে আপনার ডাক্তার আপনাকে ইনসুলিন হ্রাসের ওষুধ যেমন মাইয়ো-আইনোসিটাল এবং মেটফরমিন, অ্যান্টি-মেল হরমোন ওষুধ, গর্ভনিরোধক বড়ি, ডিম্বস্ফোটন জনিত ওষুধ, ভিটামিন ডি-এর সাপ্লিমেন্টসেশন ইত্যাদি। এছাড়াও উপরোক্ত থেরাপিতে রোগীর প্রতিক্রিয়া না হলে ডাক্তার সার্জারির সুপারিশ করতে পারেন।

দয়া করে কোনো ওষুধ গ্রহণ করার আগে আপনার নিকটবর্তী গাইনোকোলজিষ্টের পরামর্শ নিন।
Social   |     |     |